নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানার আওতাধীন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ইকরতাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সার নাঈম হোসেনের বাড়িতে গত ২২ জুন এএসআই জাকারিয়া যান। অভিযোগে বলা হয়, অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে আটক করে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি থানার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন।
এছাড়া ভীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্তকে কেন্দ্র করে তার কাছ থেকে ঘুষ দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সদর থানার অধীন কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ি ও ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্রের কিছু সদস্য মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এএসআই চন্দনও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। এছাড়া থানার অধীন অন্যান্য ইউনিট নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন