স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করা, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ এবং ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আগামী আগস্টেই তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের মধ্যেই প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আইন সংশোধন হলেও নির্বাচন পিছাবে না
স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে এ কারণে ভোটগ্রহণে কোনো বিলম্ব হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, আইন সংশোধন হলেও তা কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটি আইনেই উল্লেখ থাকবে। আর সংশোধন না হলেও বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, কারণ বর্তমান আইন যথেষ্ট কার্যকর।
যেসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নেই, সেগুলো পাবে অগ্রাধিকার
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে জনপ্রতিনিধি নেই অথবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি স্তরের নির্বাচন আলাদা ধাপে আয়োজনের চিন্তা করছে কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেগুলো অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই শুরু
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই ভোট কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আগের মতো ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে পৌরসভার ভোট একদিনে হবে, নাকি একাধিক ধাপে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগস্টেই প্রকাশ হবে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সূচিও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কমিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগস্টেই তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে।
মন্তব্য করুন