ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমীন দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত কওমি শিক্ষাবোর্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে তাকে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। এতে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে মুফতি রুহুল আমীনও জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবের পদ থেকে তাকে বিধি অনুযায়ী অপসারণ করা হয়েছে।
সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কো-চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক ও লাখো শিক্ষার্থীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভায় কওমি মাদরাসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। ওই সেলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুফতি রুহুল আমীনসহ আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে দীর্ঘদিন পর মুফতি রুহুল আমীনের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং নতুন পর্যবেক্ষণ সেলে তার অন্তর্ভুক্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন