
‘হ্যালো ডাক্তার বিডি’ নামে অনলাইনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জিয়াউর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, চেক জালিয়াতি ও ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের মতো অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন পাওনাদাররা।
কোটি কোটি টাকা পাওনার অভিযোগ
অভিযোগকারীরা বলছেন, জিয়াউর রহমানের কাছে এখনো বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসায়ী মামুন ও মহিউদ্দিনসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
পাওনাদারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত?
অভিযোগকারীদের দাবি, জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকার আদালতে একাধিক মামলা
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
পাওনাদারদের দাবি, মামলা ও অভিযোগ থাকার পরও তিনি বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘হ্যালো ডাক্তার বিডি’ ঘিরে অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হ্যালো ডাক্তার বিডি’ নামে অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ায় একের পর এক পাওনাদার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
তাদের দাবি, পাওনা টাকা ফেরতের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি।
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি
জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন পাওনাদাররা। একই সঙ্গে তাদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাওনাদারদের প্রশ্ন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এতগুলো অভিযোগ ও মামলার তথ্য সামনে আসার পরও তিনি কীভাবে রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে জিয়াউর রহমানের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এখন পাওনাদারদের অভিযোগ, আদালতের মামলাগুলো এবং তার রাজনৈতিক পদে থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে দেখছে—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি
মন্তব্য করুন