নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুখ্যাত সন্ত্রাসীর যুবলীগ নেতা সজল হোসেন ইবু ও মাদক সম্রাট সজীবের বিরুদ্ধে হৃদয় নামের এক যুবক ও তার মায়ের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টাসহ নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম (৫২)।
অভিযোগপত্রে রেহেনা বেগম উল্লেখ করেন, তিনি পূর্ব শিয়াচর লালখা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলে মো. হৃদয় (২৬)-কে তাদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। তবে হৃদয় এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন ২০২৬ সকাল প্রায় ১১টার দিকে রেহেনা বেগম তার ছেলে হৃদয়কে নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে বাড়ি থেকে বের হন। পূর্ব শিয়াচর লালখা এলাকার অ্যাডভান্স গার্মেন্টস সংলগ্ন গলিতে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হৃদয়ের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি তার বাম চোখের ভ্রুর ওপর লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে রেহেনা বেগমকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা এবং শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, হামলার সময় হৃদয়ের পকেটে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য রাখা ৩১ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রায় ২৯ হাজার ৯৯৯ টাকা মূল্যের একটি টেকনো স্পার্ক ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ করলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মা-ছেলেকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রেহেনা বেগম। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে।
মন্তব্য করুন