অনলাইন ডেস্ক
১২ অগাস্ট ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা মানছে না সামসুল হক খান কলেজ

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা মানছে না সামসুল হক খান কলেজ

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। গত ৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে গ্রুপভেদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ শাখা থেকে এবার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সে হিসাবে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে গড়ে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হলে প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ দাঁড়ায়। তবে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার পরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের ওই নির্দেশনার পরও তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে তাদের ফলাফল খারাপ করে দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মানি রিসিট দেওয়া হয়নি। অভিযোগ করলেও প্রমাণ দেখানো কঠিন হবে। তাই ফলাফল নিয়ে আশঙ্কা থাকায় তারা মুখ খুলতে চান না।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নানা খাতে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এখন ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে নেওয়া অর্থের বিষয়েও তারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দেওয়া হচ্ছে না মানি রিসিট

অভিভাবকদেরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরাসরি অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে না এবং কোনো মানি রিসিটও দেওয়া হচ্ছে না।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অভিভাবকদের কাছে অর্থ নেওয়ার লিখিত প্রমাণও থাকছে না।

তার অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি জানলেও অনেক সময় অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ভয় পান। এই সুযোগেই কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মের বাইরে অর্থ আদায় করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বোর্ড চেয়ারম্যানের

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার বোর্ড থেকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে কোনো অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো মানি রিসিটও দেয় না। আবার অভিভাবকরাও নানা কারণে অভিযোগ করতে ভয় পান।

‘অনিয়ম বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা’

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানকে বারবার সতর্ক করার পরও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এবার বোর্ডের নির্দেশনা অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অনিয়ম করার সাহস না পায়।

তার ভাষ্য, কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে। এ ধরনের অনিয়মের সঠিক তথ্য সাংবাদিকদের তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি।

‘বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই’

অভিযোগের বিষয়ে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকের কাছ থেকেই প্রথমবার শুনেছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইবেন।

তিনি আরও জানান, অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা দিনের বেলায় তার ফোনও অনেক সময় ধরেন না।

অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট নোটিশ এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নোট: শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় এবং প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহের অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল

৫ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কা, সতর্কসংকেত জারি

জামিনপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে ১২ জেলায় ‘ই-বেইল বন্ড’ চালু আজ

মালয়েশিয়ায় ২ দিনের অভিযানে ৪৬০ বাংলাদেশি আটক

দুদক অভিযোগ থেকে ছাড় দিলেও সিআইডির অনুসন্ধানে সেই মোয়াজ্জেম

ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা মানছে না সামসুল হক খান কলেজ

দেশজুড়ে লোডশেডিং: হামলার ভয়ে পুলিশের সহায়তা চাইল পল্লী বিদ্যুৎ

বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল!

৩০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে দুদকের তলব

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও ক্লাস শুরু নিয়ে যা জানা গেল

১০

মধ্যরাতে নারীসহ পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিল পুলিশ

১১

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি প্রসিকিউশনের

১২

তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং, রংপুরে বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা

১৩

পিআইওর বাসা থেকে বন্যাকবলিতদের জন্য আসা বিপুল ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার

১৪

আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ

১৫

নতুন রাষ্ট্রপতি বরণে প্রস্তুত বঙ্গভবন

১৬

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ‘ভাগ্নি-জামাই’ সিন্ডিকেটের অভিযোগ, প্রশ্নে পদায়ন ও কেনাকাটা

১৭

ভারত-আফগানিস্তান সিরিজের সূচি চূড়ান্ত, ফিকে বাংলাদেশ সফরের আশা

১৮

রেস্তোরাঁয় ‘গোপন বৈঠক’ : আ. লীগের ৬ নেতাকর্মী রিমান্ড শেষে কারাগারে

১৯

মানিকগঞ্জে জবির শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

২০