রাজধানীর অভিজাত গুলশান-১-এর সাউথ এভিনিউ। বাইরে থেকে সাধারণ স্পা ও ম্যাসেজ পার্লার। কিন্তু অভিযোগ, এই আড়ালেই চলছে নানা অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড। নারী দিয়ে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো, আগত ব্যক্তিদের গোপনে ভিডিও ধারণ, পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রশ্নের মুখে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শাহ আলম সরদার, পিতা তোফাজ্জল সর্দার। তার ব্যবসায়িক ঠিকানা হিসেবে প্লট-৫১, সাউথ এভিনিউ, ৫ম তলা, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে কথিত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, স্পা সেন্টারে আসা ব্যক্তিদের নারীদের মাধ্যমে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হয়। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও গোপনে ধারণ করে পরে তা ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বিষয় গোপন ভিডিও ধারণ। অভিযোগকারীদের দাবি, স্পা সেন্টারে আগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নারীদের কথিত আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
এ অভিযোগ সত্য কি না, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ ডিজিটাল ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তদন্ত ছাড়া এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।
স্পা সেন্টারে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে তরুণীদের আনার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থী ও তরুণীদের টার্গেট করার কথাও বলা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নারীদের বক্তব্য, নিয়োগের নথি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অভিযোগে শাহ আলমের সঙ্গে রাজু, সোহেল ওরফে নুহু, শিমুল ওরফে খোকা এবং আলাউদ্দিন নামে কয়েকজনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথাও বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ থাকতে পারে বলেও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কথিত ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কথিত ‘পুলিশ ম্যানেজ’ বক্তব্য নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, থানা-পুলিশ ‘ম্যানেজ’ করেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও নাকি দাবি করা হয়েছে।
এমন বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু একটি স্পা সেন্টের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তখন খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হবে, কোনো পুলিশ সদস্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের পেছনে রয়েছেন কি না। অভিযোগকারীরা এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছেন।
এদিকে গুলশান-বনানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কথিত নারীচক্রের মাধ্যমে মাদক, জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।
অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি।
অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে স্পা সেন্টটির ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কাগজপত্র, কর্মীদের পরিচয় ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার কথিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে কোনো পুলিশ সদস্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। শাহ আলম সরদার ও অভিযোগে উল্লেখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন