বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেছেন, চাকরি হতে হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘চাকরি মামার নয়, চাকরি চাই’, ‘কোটা গেছে যে পথে, কমিটিও যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে কমিটি-বাণিজ্য, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ কিংবা মামা-খালু-চাচার পরিচয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের নিয়োগ আমরা মেনে নেব না।’
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। চাকরির ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম প্রশ্ন করেন, এসব কমিটিতে কারা থাকবেন এবং তারা কীভাবে নিয়োগ দেবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ডাকসু ভিপির আশঙ্কা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, লাখ লাখ টাকা নিয়ে পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে যদি একজন যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শুধু ওই চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে অন্যায় নয়; পুরো শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গেও অন্যায়।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের দাবি
শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর রাখার আহ্বান জানান সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা করা উচিত নয়, যাতে শিক্ষক নিয়োগে কমিটি-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
তার ভাষায়, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট-চাকরি হবে মেধায়, চাকরি হবে যোগ্যতায়, চাকরি হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।’
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করা হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, যদি বাস্তবে ‘সবার আগে কমিটি, সবার আগে বাণিজ্য, সবার আগে দুর্নীতি, সবার আগে স্বজনপ্রীতি’ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশ কোথায়, যোগ্যতা কোথায় এবং মেধার মূল্যায়ন কোথায়?
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘চাকরি মামার নয়, চাকরি যোগ্যতার। কমিটি-বাণিজ্য বন্ধ করো, দুর্নীতি বন্ধ করো, মেধার মূল্যায়ন করো।’
বৃষ্টির মধ্যেও সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান ডাকসু ভিপি। একই সঙ্গে কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্তব্য করুন