টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর নকআউটেও দাপট ধরে রেখেছে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, দলীয় শক্তি ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড বিবেচনায় এ ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট কিলিয়ান এমবাপ্পের দল।
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রদানকারী অপ্টা সুপার কম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে প্যারাগুয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করতে পারে মরক্কো। কানাডাকে হারিয়ে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাও শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হলেও পূর্বাভাসে এগিয়ে রাখা হয়েছে ফরাসিদেরই।
সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে পারে সেমিফাইনালে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল স্পেন ও পর্তুগাল। ব্র্যাকেটের হিসাব বলছে, শেষ চারে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে স্পেন বিদায় নিলে জায়গা করে নিতে পারে পর্তুগাল। যে দলই প্রতিপক্ষ হোক না কেন, শিরোপার পথে সেই বাধা টপকাতে হবে দেশমের শিষ্যদের।
ফাইনালে উঠতে পারলে ফ্রান্সের জন্য অপেক্ষা করতে পারে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টের অন্য প্রান্ত থেকে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সম্ভাব্য সেমিফাইনালে এই দুই লাতিন পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, তাদের মধ্যে জয়ী দলই হতে পারে ফ্রান্সের শেষ বাধা।
আর্জেন্টিনা ফাইনালে এলে সেটি হবে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে ব্রাজিল উঠলে ইউরোপ-লাতিন আমেরিকার আরেকটি মহারণ দেখার সুযোগ পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ট্রফি পুনরুদ্ধার করতে হলে ফ্রান্সকে সম্ভাব্যভাবে স্পেন বা পর্তুগালের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকেও হারাতে হবে।
মন্তব্য করুন