সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল বিভাগের দুই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ এবং অপরজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ এ সিদ্ধান্ত দেন। ভূমি প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অপসারণ হওয়া কর্মকর্তা হলেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার মাছরং ও জম্বুদ্বীপ মৌজার এসএ খতিয়ানের রেকর্ড অবৈধভাবে সংশোধন করেন। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি লিখিতভাবে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
অন্যদিকে, বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খাস খতিয়ানভুক্ত জমির রশিদ ও দাখিলা প্রদান করে সরকারি জমি বেহাত করতে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
গত রোববার বিভাগীয় মামলার শুনানি শেষে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও বিষয়টি বুধবার দুপুরের পর প্রকাশ্যে আসে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, বিভাগীয় তদন্ত ও শুনানিতে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন