কাস্টমসে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, বারবার কায়িক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং ও পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরও একই পণ্য পুনরায় পরীক্ষা, ল্যাব টেস্টের নামে অযথা বিলম্ব এবং নথি যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাস্টমসে পণ্য আটকে থাকায় ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, শেড ও ইয়ার্ড চার্জ, স্টোরেজ ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের ওপরও।
তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে বন্দর এলাকায় পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম আরও ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এতে তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য আর্দ্রতাসংবেদনশীল পণ্যের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বিলম্ব হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড় এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।
সম্প্রতি দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কাস্টমসের বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে। চিঠিতে বলা হয়, কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা ও নানা ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক চিঠিতে উল্লেখ করেন, কনটেইনার স্ক্যানিং সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে গোপন সংবাদের অজুহাতে পুনরায় কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে। আবার স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা সম্ভব হলেও ল্যাব টেস্টের নামে পণ্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, যার কারণে খালাসে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে। একাধিকবার কায়িক পরীক্ষায় অনেক পণ্য ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব পণ্যের মান আরও নষ্ট হলে তা বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের বাজারমূল্যের ওপরও পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসা সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে কাস্টমস ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
মন্তব্য করুন