কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারি খাস জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল হাশেম। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আগের ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আট সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় আবুল হাশেমকে।
আবুল হাশেম দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং পূর্ববর্তী জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার এলাকার নয়াগাঁও মৌজার সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত একটি জমির ১০ শতাংশ অংশ জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে বন্দোবস্ত করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারি বন্দোবস্তভুক্ত জমি অন্য কারও নামে স্থানান্তরের সুযোগ আইনে নেই। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি ওই সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ জোরদার করেন। বর্তমানে ভবনটির তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল হাশেমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দলের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবুল হাশেমকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় জেলা বিএনপির ভেতরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের একাংশ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন