প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সোমবার দিল্লিতে সংসদ চলো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। সরকারি হিসাবে, ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ও আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি। সরকার জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ইস্যু থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে, যা মোদী সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন