গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাস্তির পরিবর্তে পদোন্নতি এবং পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ঠিকাদারের জামানতের অর্থ নগদায়ন, বিতর্কিত বদলি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটি মানির পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শাস্তি না হয়ে রহস্যজনকভাবে তিনি দায়মুক্তি পান। এরপরই পদোন্নতি দিয়ে তাকে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একদিনে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীকে বদলির আদেশ দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন সারোয়ার জাহান। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এই বদলি করা হয় এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বদলি আদেশ স্থগিত করে এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়া বদলি বা পদোন্নতির ফাইল নিষ্পত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
শুধু বদলিই নয়, ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের ৬৬৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকা প্রকাশের পর তা হঠাৎ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযোগ, মেধাতালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তদবিরপ্রাপ্তদের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগেও সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তার অফিসের টেবিলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দেখা যাওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সারোয়ার জাহান দাবি করেন, ওই অর্থ ৬৬৯ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ অফিসের টাকা ছিল। যদিও এ ব্যাখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সারোয়ার জাহান বলেন, বদলিগুলো অফিসের নির্দেশনায় করা হয়েছিল, পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়েছে। ওয়েটিং তালিকা সরানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই তালিকাটি ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে। তবে ঠিকাদারের ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার নগদায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।”
এদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন