
হবিগঞ্জে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ এ আদেশ জারি করেন।
জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ, শোভাযাত্রা, স্লোগান, মাইকিং, পিকেটিং এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে—এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বুধবার একই সময় ও একই স্থানে এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদলও পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। দুই পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি এবং বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকার সামনে এনসিপির পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সাংবাদিক আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মন্তব্য করুন