অনলাইন ডেস্ক
২৬ জুলাই ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি স্ত্রীর

একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি স্ত্রীর

জয়পুরহাটে কর্মরত এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী। রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী স্ত্রী শামিয়া খান এশা।

রোববার (২৬ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে আরিফ হোসেন জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‘বিয়ের পর বদলে যায় স্বামীর আচরণ’

শামিয়া খান এশার দাবি, বিয়ের সময় তার পরিবার প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও উপহার, পাশাপাশি প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, হীরার আংটি ও মূল্যবান ঘড়ি উপহার দেয়। শুরুতে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর স্বামীর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়।

তার অভিযোগ, স্বামী নিয়মিত মাদক ও মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি বাসায় বিভিন্ন নারীকে এনে সময় কাটানো এবং বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপানের আয়োজন করতেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

৪০ লাখ টাকার যৌতুক দাবির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে শামিয়া অভিযোগ করেন, সংসার টিকিয়ে রাখার নামে তার পরিবারের কাছে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন। ওই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা, পূর্বাচলে জমি ক্রয় এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, এরপরও আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক চাওয়া হয়।

নির্যাতনের অভিযোগ, শিশু কন্যাও রেহাই পায়নি

শামিয়ার ভাষ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের বাসায় যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের সাড়ে পাঁচ বছরের কন্যাশিশুও নির্যাতনের শিকার হয়। পরে গভীর রাতে মা-মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে প্রতিবেশীর সহায়তায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে পুলিশি সহায়তায় কয়েক দিন নিরাপত্তায় থাকলেও সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। তবে বাবার বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা স্ত্রী ও সন্তানের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন।

মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে শামিয়া দাবি করেন, গত ৩০ মে ঢাকার বসিলায় এক বন্ধুর বাসায় স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবাদ করলে তার মাথায় মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এসব ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি গত ৫ জুলাই যৌতুক নিরোধ আইনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তার দাবি, নির্যাতনের ছবি, অডিও, ভিডিও, মুঠোফোনের বার্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

শামিয়ার অভিযোগ, আদালতের সমনের বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের প্রভাব ব্যবহার করে জয়পুরহাট সদর থানায় তার, তার মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি মামলার সাক্ষীদেরও ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা একই জেলায় কর্মরত থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তাকে এসিড নিক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা থেকে প্রত্যাহারের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শামিয়া খান এশা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জয়পুরহাট থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী স্ত্রীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপি নেতার গাড়িবহরে হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নতুন কর ছাড়াই চাঁদপুর পৌরসভার ২০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে

আগস্টেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন

প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন রিজেন্টের সাহেদ, তবে এখনই মুক্তি নয়

আগস্টেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম, ডিজেল ১১৫ ও অকটেন ১৪৫ টাকা

১৫ বছর আগের ব্যবসায়ী হ-ত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারীর যাবজ্জীবন

কাজিদের অনিয়মে বছরে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

‘পাঁচ মাসেও সমাজে পরিবর্তন নেই, বদলেছে শুধু তারেক রহমান’- মির্জা ফখরুল

শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাগারে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

১০

আরো ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

১১

পঞ্চগড়ে বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক, সীমান্তে পুশইন ও গুলি বন্ধে গুরুত্ব

১২

পঞ্চগড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

১৩

নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন

১৪

সাইবার আইন আবার সংশোধনের পথে, গুজব-অপতথ্য ছড়ালে হতে পারে ১০ বছরের কারাদণ্ড

১৫

জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

১৬

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, স্বাভাবিক হলো পরিস্থিতি

১৭

পণ্য খালাসে জটিলতা, কাস্টমসের বিলম্বে বাড়ছে ব্যবসায়ীদের লোকসান

১৮

‘গুলশানের চামেলি’তে মধুমিতার সঙ্গে থাকছেন বাঁধন

১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় অগ্রগতি, ৩ লাখ শরণার্থী ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

২০