বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক শরীফ আহম্মদ মাহফুজ উল আলম মোল্লার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, ইজারা বাণিজ্য এবং অবৈধ কমিশন গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনা ও উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদী বন্দরের বিভিন্ন ঘাটের ইজারা, সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে পছন্দের ঠিকাদার বা ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া, কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিল অনুমোদনের বিনিময়ে অবৈধ কমিশন নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে স্থানীয় ঘাট ও শুল্ক আদায় কেন্দ্র থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএতে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেই নতুন অভিযোগ
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে। এর আগে নৌ সংরক্ষণ বিভাগে তেলের ঠিকাদারি নিয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
এছাড়া নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগে বন্দর ও পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিচালক এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগ সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে শরীফ আহম্মদ মাহফুজ উল আলম মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন