নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। তবে এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে পিএল একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়ার উদ্যোগে রাত সোয়া ৮টার দিকে শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তবে আলোচনা সফল না হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম অভিযোগ করেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবিরের নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওমর ফারুক ও অটোরিকশাচালক বেলালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও রাত ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির কার্যালয় আগে থেকেই বন্ধ ছিল। পরে বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় ও একটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়। আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওমর ফারুককে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষে বিএনপির দুই নেতাকর্মী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে।
মন্তব্য করুন