অনলাইন ডেস্ক
১ অগাস্ট ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গবেষণায় উঠে এলো বাস্তবতা: ৪ কারণে নারীরা যৌ-ন পেশায় আসতে বাধ্য হন

গবেষণায় উঠে এলো বাস্তবতা: ৪ কারণে নারীরা যৌন পেশায় আসতে বাধ্য হন

বাংলাদেশে পথভিত্তিক নারী যৌনকর্মীদের অধিকাংশই স্বেচ্ছায় এ পেশায় আসেননি। বরং শৈশবের দারিদ্র্য, পারিবারিক ভাঙন, ঘরছাড়া জীবন এবং শারীরিক বা যৌন সহিংসতার মতো একাধিক সামাজিক ও পারিবারিক সংকট তাদের এই পেশায় ঠেলে দিয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘কালচার অ্যান্ড সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত ‘Beyond Redemption: Prevention, Protection and Narrative Identity Construction among Bangladeshi Street-Based Female Sex Workers’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ডওয়েল রিসার্চ ল্যাব-এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের গবেষক দল গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

গবেষণায় দেশের বিভিন্ন শহরের ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৩০ জন পথভিত্তিক নারী যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও মানসিক অবস্থার বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৯৩ শতাংশ যৌন পেশায় যুক্ত হওয়ার আগেই গুরুতর যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৬৭ শতাংশ অল্প বয়সেই নানা কারণে পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

গবেষকদের মতে, এসব নারীর কাছে যৌন পেশা কোনো পছন্দের কর্মজীবন ছিল না। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, নির্যাতন, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম তাদের অনেককে শেষ পর্যন্ত এই পথে নিয়ে এসেছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী জানান, শৈশবে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তারা কোনো সহায়তা পাননি। আবার কেউ কেউ কাজের সন্ধানে শহরে এসে প্রতারণার শিকার হয়ে জোরপূর্বক যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩০ জন নারীর মধ্যে একজনও স্বেচ্ছায় এই পেশা বেছে নেননি। প্রায় সবার জীবনেই শৈশবের দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা, ঘরছাড়া জীবন এবং সহিংসতার অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একই ধরনের বাস্তবতা তৈরি করেছে।

তার ভাষ্য, বিষয়টি কোনো ব্যক্তির চরিত্রগত সমস্যা নয়; বরং এটি একটি সামাজিক ও কাঠামোগত সংকট। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেবল পুনর্বাসন নয়, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও নারীদের জন্য আগাম সুরক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস, পারিবারিক সহায়তা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

গবেষকদের মতে, সমস্যার উৎপত্তিস্থলে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে অনেক নারীকে এমন অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জমি বিরোধে নরসিংদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত, অভিযুক্ত আ. লীগ নেতার ছেলে

জমির মালিকানা জটিলতায় সড়কের কাজ বন্ধ

শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

গাছে বেঁধে নি-র্যা-তনের ভিডিও ছড়ানোর পর স্কুলছাত্রীর আ-ত্ম-হ-ত্যার চেষ্টা

শুটিংয়ে গুরুতর আহত রাশমিকা, ছয় সপ্তাহ থাকতে হবে বিশ্রামে

ভারতীয়দের আনতে সরকারের দ্বারস্থ বিসিবি!

মেসেঞ্জারের আপত্তিকর চ্যাট ভাইরাল, ছাত্রশক্তির শাবিপ্রবি নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি

আয়নাঘরে রাখার পর ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে

গবেষণায় উঠে এলো বাস্তবতা: ৪ কারণে নারীরা যৌ-ন পেশায় আসতে বাধ্য হন

১০

বিশ্বকাপ বয়কটের পেছনের ইতিহাস: ফুটবলের বাইরে রাজনীতি ও প্রতিবাদের গল্প

১১

বিজিবির অভিযানে ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

১২

ক্ষমা চাইলেন মোদিকে ‘বাজে কথা’ বলা তরুণী

১৩

মিয়ানমারে পাচারের আগেই ৪৫০ বস্তা সার জব্দ, আটক ২৩

১৪

পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের মতবিনিময়

১৫

মধ্যস্বত্বভোগী ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় চড়া মাছ-মাংসের বাজার

১৬

টঙ্গীতে দুই শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার

১৭

রাজধানীতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, বিপুল কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দ

১৮

ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে নিজেই গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৯

বিএনপি নেতার গাড়িবহরে হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

২০