দেশে মাছ ও মাংসের উৎপাদন এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কমছে না দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, আর সংসারের বাজেটেও পড়ছে বাড়তি চাপ।
বর্তমানে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, গরুর মাংস ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং সাধারণ রুই-কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও দাম কমছে না কেন—এ প্রশ্ন এখন ভোক্তাদের মুখে মুখে।
সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা অস্বচ্ছতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মিরপুর-১১ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারেও রয়েছে উচ্চমূল্যের প্রভাব। পাঙাশ ও তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, দেশি শিং ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, শোল ৬৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং কাঁচকি মাছ প্রায় ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে মাছ ও মাংস কিনছেন। এতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিরপুর-১১ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী রইসুল ইসলাম বলেন, খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে কম দামে বিক্রি করাও সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্বস্তি ফেরাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি। তবেই মাছ ও মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন