গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক আঘাতে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার তিন দিন পর, শুক্রবার রাতে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভাইরাল ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং সংশ্লিষ্ট তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে আনা হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে—এমন দাবি করে কয়েকজন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নয়ন বাড়ৈ বলেন, আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর কয়েকজন যুবক ওই দুজনকে তার বাড়ির পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন।
পরিবারের দাবি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক অপমান ও মানসিক চাপে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঢাকা থেকে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত নির্যাতন ও আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন